August 9, 2026, 9:51 am

২৭ সেকেন্ডের কল রেকর্ডে ফেঁসে গেলেন এসপি বাবুল

২৭ সেকেন্ডের কল রেকর্ডে ফেঁসে গেলেন এসপি বাবুল

ডিএন২৪ ডেস্কঃ চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ড নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনার বাদী সাবেক এসপি বাবুল আকতারই এখন এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি। তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মূলত ২৭ সেকেন্ডের কল রেকর্ডে পাল্টে যায় মিতু হত্যাকাণ্ডের মামলার গতিপথ। এতেই বেরিয়ে আসে পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ।

বুধবার মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মিতুকে হত্যাকাণ্ডের দিন সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে মুছা নামের এক ব্যক্তির মোবাইলে ফোন করেন বাবুল আক্তার। সালাম দিয়ে মুছা ফোনটি রিসিভ করতেই ওপার থেকে বাবুল আক্তার বলেন, ‘তুই কোপালি ক্যান?’ ৩ থেকে ৪ সেকেন্ড থেমে আবার বলেন, ‘বল তুই কোপালি ক্যান? তোরে কোপাতে কইছি?’ এর পর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বাবুল আকতার।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুলিশের কাছে এই ফোন রেকর্ড আসার পর ঢাকার বনশ্রী শ্বশুরের বাসা থেকে ঢাকা গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয় বাবুল আক্তারকে। গোয়েন্দা কার্যালয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি থাকার পর তিনি পুলিশের চাকরি থেকে পদত্যাগপত্র দিয়ে মুক্তি পান। যদিও বাবুল বলছেন তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।

শুরু থেকেই পুলিশের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন বাবুল আকতার। তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন তার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুলের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন।

সর্বশেষ ১১ মে বাবুল আক্তারকে ঢাকা থেকে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো বিভাগের কর্মকর্তারা। এরপর তাকে পিবিআই হেফাজতে রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে নতুন করে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করবেন মিতুর বাবা। এই মামলায় বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করা হয়। বর্তমানে বাবুল আক্তার ওই মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে আছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। 

পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদরদফতরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। 

হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন বাবুল। তবে পুলিশ তদন্তে তার সম্পৃক্ততার গুঞ্জন ছিল আগে থেকেই। 

এরপর তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। বাবুলের দাবি তার স্ত্রী জঙ্গি হামলায় নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তার শ্বশুরের দাবি, বাবুল এক এনজিওকর্মীর সঙ্গে পরকীয় করছিলেন। বিষয়টি জেনে ফেলায় মিতুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলেন বাবুল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com